২৭শে ফেব্রুয়ারি, ২০২৪ খ্রিস্টাব্দ, মঙ্গলবার, রাত ২:৩৩
শিরোনাম :
শিরোনাম :
অমর একুশে বইমেলায় মনোয়ার মোকাররমের “আগামী বসন্তে” আজ বঙ্গবন্ধু গবেষক মিল্টন বিশ্বাসের জন্মদিন কলকাতা আন্তর্জাতিক বইমেলায় এপার-ওপার বাংলার লেখকগণ জবিতে ‘মধুসূদন ও বাংলা সাহিত্য’ শীর্ষক সেমিনার অনুষ্ঠিত দীনেশচন্দ্র সেনের বৃহৎবঙ্গ, বাংলার লোককৃষ্টির যুক্ত সাধনার ঐতিহ্য আলোচনা সভার প্রধান আলোচক মিল্টন বিশ্বাস স্বর্ণপদক পাচ্ছেন কথাসাহিত্যিক নাসরীন জেবিন যারা কবিতা ভালোবাসে তারা স্বচ্ছ মানসিকতার হয় : কবি কামাল চৌধুরী ফাঁসিতলা ক্লাব ও পাঠাগারের কার্যনির্বাহী কমিটির সাথে সাংসদ মনোয়ার হোসেন চৌধুরীর শুভেচ্ছা বিনিময় ফাঁসিতলা ক্লাব ও পাঠাগারের প্রথম কার্যনির্বাহী সভা অনুষ্ঠিত ‘‘সাহিত্যে দুই মহামানব : গান্ধী ও বঙ্গবন্ধু’’ বিষয়ক আন্তর্জাতিক আলোচনা চক্রটি অনুষ্ঠিত
নোটিশ :
Wellcome to our website...

সচেতনতাই রুখবে করোনা

রিপোর্টার
মঙ্গলবার, ২৭ ফেব্রুয়ারী ২০২৪, ০২:৩৩ পূর্বাহ্ন

মো. আহসান হাবিব

জীবন যাপনের উপযুক্ত উপকরণ ও পরিবেশ সৌর জগতের পৃথিবী নামক গ্রহেই কেবল আছে কিন্ত সেই পৃথিবীই আজ অতিবাহিত করছে দুঃসময়।পৃথিবীর এই ক্রান্তিলগ্নে বাধ্য হয়ে এক দেশ অন্যদেশ থেকে বিচ্ছিন্ন হয়ে পড়েছে।ক্রমান্বয়ে বিভিন্নভাবে স্থবির হয়ে পড়ছে পৃথিবী।

কালের পরিক্রমায় পৃথিবীতে অনেক মহামারি এসেছিল। বর্তমানে বিশ্বজুড়ে ভয়ঙ্কর ও আলোচিত যে মহামারি বিরাজ করছে তার নাম করোনা ভাইরাস। করোনা হলো এক বৃহৎ ভাইরাস পরিবার- যা প্রাণী বা মানুষের মধ্যে বিভিন্ন অসুস্থতার কারণ হতে পারে এমনকি অসুস্থ প্রাণী বা মানুষ মৃত্যুমুখে পতিত হচ্ছে। মানব দেহের সাধারণ সর্দি, কাশি, জ্বর ইত্যাদির কারণ হয়ে দাঁড়ায় ভাইরাসটি।

শ্বাসতন্ত্রে রোগ সৃষ্টিকারী এই ভাইরাসটিকে নোভেল করোনা বা কোভিড – ১৯ বলা হয়। অতীতে এই ভাইরাসটি মানবদেহে না পাওয়া গেলেও আমরা  ২০১৯ সালের ডিসেম্বরে চীনের উহান শহরে সর্বপ্রথম ভাইরাসটির প্রাদুর্ভাব লক্ষ্য করি। ভাইরাসটির মাধ্যমে এরই মধ্যে চীন, ইতালি, স্পেন, যুক্তরাষ্ট্র, ইরানসহ বহুদেশ সংক্রমিত হয়েছে। সারা বিশ্বে এখন পর্যন্ত প্রায় ৭৬ হাজার মানুষ মারা গেছে। আক্রান্ত হয়েছে প্রায় ১৪ লাখ মানুষ। বাংলাদেশও ভয়াল করোনার কবলে পড়ে ইতোমধ্যে প্রাণ হারিয়েছে ১৭ জন, আক্রান্তও হয়েছে ১৬৪ জন। ভাইরাসটি প্রতিহত করতে এখন পর্যন্ত কোনো ভ্যাকসিন বা প্রতিষেধক তৈরি না হওয়ায় বিশ্ববাসীর মধ্যে আতঙ্ক বিরাজ করছে। কোভিড-১৯ এ আক্রান্ত হওয়ার পূর্ববর্তী লক্ষণগুলো সর্দি, গলা ব্যথা, কাশি, মাথা ব্যথা, জ্বর, হাঁচি, অবসাদ, শ্বাসকষ্ট ইত্যাদি। করোনার ভয়াল থাবা হতে বাঁচতে বিশ্বের দেশগুলো স্ব-স্ব উদ্যোগে লকডাউনে গেছে। বাংলাদেশে যাতে করোনা ভাইরাস ছড়াতে না পারে তাই তো সরকার দেশে সাধারণ ছুটি ঘোষণা করেছে, এমনকি কয়েকটি জেলায় লকডাউন করেছে। করোনা পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে রাখতে সশস্ত্র বাহিনীও মাঠে আছে। এতকিছুর একমাত্র লক্ষ্য দেশের নাগরিক ঘরে থাকবে, সামাজিক দূরত্ব বজায় রাখবে। বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থা ও বিশেষজ্ঞদের মতে করোনা মোকাবেলায় কোনো চিকিৎসা আবিষ্কার না হওয়ায় ভাইরাসটিকে রুখতে পারে একমাত্র সচেতনতাই।

করোনা ভাইরাস প্রতিরোধে আমাদের অবশ্যই করণীয় বিষয় হলো-

১. ঘর থেকে বের না হওয়া। খুব প্রয়োজন ছাড়া বাড়ির বাইরে না যাওয়া।

২. বাইরে গেলেও মাস্ক ব্যবহার করতে হবে।

৩. ঘন ঘন সাবান / হ্যান্ডওয়াশ দিয়ে কমপক্ষে ২০ সেকেন্ড হাত ধুতে হবে।

৪. হ্যান্ড স্যানিটাইজার ব্যবহার করতে হবে।

৫. মাছ, মাংস, ডিম ভালো ভাবে সিদ্ধ করে খেতে হবে।

৬. কাঁচা ফলমূল ভালো ভাবে পরিষ্কার করে খেতে হবে।

৭. নিয়মিত ঘর ও কাজের জায়গা পরিষ্কার করতে হবে।

৮. গণপরিবহণ এড়িয়ে চলতে হবে।

৯. প্রচুর ফলের রস ও পর্যাপ্ত পানি পান করতে হবে।

১০. সামাজিক দূরত্ব বজায় রাখতে হবে, সেক্ষেত্রে এক ব্যক্তি থেকে অন্য ব্যক্তির দূরত্ব কমপক্ষে ৩ ফুট হতে হবে।

১১. বাইরে থেকে ঘরে ফিরে হ্যান্ডওয়াশ কিংবা সাবান কিংবা ডিটারজেন্ট কিংবা ছাই দিয়ে ভালো ভাবে হাত ধুয়ে নিতে হবে।

১২. ময়লা কাপড় দ্রুত ধুয়ে ফেলতে হবে।

১৩. অপ্রয়োজনে ঘরের দরজা, জানালা খোলা রাখা যাবে না।

এর আগে আমরা ডেঙ্গু ভাইরাস মোকাবেলা করেছি। বলতে পারি অনেকটা সফলও হয়েছি। এবার করোনা ভাইরাসকেও  আমরা প্রতিহত করবো। করোনার মোকাবেলা করতে দেশের সকল নাগরিককে সচেতন হতে হবে, সরকার কর্তৃক নির্দেশনাগুলো মানতে হবে। সরকারের সঙ্গে সকলের সহযোগী মনোভাব নিয়ে কাজ করতে হবে। সমাজের ধনী ও বিত্তশালীদের খেটে খাওয়া- দিনমজুরদের পাশে দাঁড়াতে হবে। দল-মত, ধর্ম-বর্ণ নির্বিশেষে নিজ নিজ অবস্থান হতে দেশের এই সংকটময় ক্রান্তিকালে একে অন্যের সাহায্যে এগিয়ে আসতে হবে।মানবিকতার পরিচয় দেয়ার এখনই সময়। 

তাপমাত্রা বাড়ার সঙ্গে সঙ্গে করোনার প্রকোপ কমে আসবে বলে আমরা আশাবাদ ব্যক্ত করছি। যারা বিদেশ থেকে দেশে এসেছেন তাদের প্রতি বিনীত আবেদন আপনারা ঘরে থাকুন। আপনি যেন আপনার পরিবার কিংবা সমাজ কিংবা দেশের কোনো নাগরিকের মৃত্যুর কারণ না হোন। দেশে এবং দেশের বাইরে অনেকেই করোনায় আক্রান্ত হয়ে ইতোমধ্যে সুস্থ হয়ে উঠছেন। করোনা বড়ই অভিমানী আপনি/ আমি যদি তাকে আমন্ত্রণ না করি হয়তো সে আসবে না। তাই আতঙ্ক বা গুজব ছড়িয়ে সাধারণ মানুষকে বিভ্রান্তিতে না ফেলে আসুন সচেতনতার মাধ্যমে করোনাকে প্রতিহত করি।

(লেখক: মো. আহসান হাবিব, তরুণ কলামিস্ট ও শিক্ষার্থী, জগন্নাথ বিশ্ববিদ্যালয়)


আপনার মতামত লিখুন :

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

এ জাতীয় আরো সংবাদ
এক ক্লিকে বিভাগের খবর